মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রামগঞ্জে সিএনজি-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ, স্কুল ছাত্র নিহত রামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত রামগঞ্জে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে স্বামী স্ত্রীর প্রতারণা, আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ বিক্রির জন্য ছেলেকে বাজারে তুললেন মা, দাম চাইলেন ১২ হাজার এমপি-মন্ত্রী আর আওয়ামী লীগের কর্মীরাই বেহেশতে আছেন: জিএম কাদের রামগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ন বাঁশের সাঁকো দিয়ে মুসুল্লি এবং শিক্ষার্থীদের পারাপার প্রেমিকার ব্যাগে প্রেমিকের মরদেহ, ‘চরিত্রহীন’ বলায় হত্যা মামলায় ক্ষিপ্ত হয়ে মোটরসাইকেলে আগুন দিলেন যুবক লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের ৪ ভুয়া চিকিৎসকের জরিমানা রামগঞ্জে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হলো টিচার্স মেডিকেল সেন্টার রামগঞ্জে সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ঈদ পুনর্মিলনী ও সংবর্ধণা অনুষ্ঠিত রামগঞ্জে মাদ্রাসা ভবন নিলাম নিয়ে সভাপতি ও প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ রামগঞ্জে নিখোঁজের ২৩দিনেও সন্ধান মেলেনি আওয়ামীলীগ নেতার রামগঞ্জে ব্যবসায়ীকে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি রামগঞ্জে লাল, সবুজ টিমের ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত রামগঞ্জে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় প্রতারক নুরআলম জেলহাজতে রামগঞ্জ সরকারী হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের খোঁজ-খবর নিলেন এমপি আনোয়ার খান রামগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত রামগঞ্জে নাগমুদ কেআই ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত রামগঞ্জ পৌরসভার বাজেট ঘোষনা



সাবেক এমপি আউয়াল ৪ দিনের রিমান্ডে

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২১ মে, ২০২১
  • ৬৩৭ Time View

রামগঞ্জ কন্ঠ ডেক্স,২১মেঃ রাজধানীর পল্লবীতে চাঞ্চল্যকর সাহিনুদ্দীন হত্যা মামলায় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি, ইসলামি গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এবং তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এমএ আউয়ালকে ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার হোসেন। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এর আগে এই মামলায় একই দিন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন মেয়াদে তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তারা হলেন- মো. সুমন বেপারী, মো. রকি তালুকদার ও মুরাদ।
১৬ মে পল্লবীতে নিজ শিশু সন্তানের সামনে চাপাতি ও রামদাসহ অন্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে সাহিনুদ্দিনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাহিনুদ্দিনের মা আকলিমা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি, ইসলামি গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এবং তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এমএ আউয়ালসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া আরও ১৪-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। মামলায় এমএ আউয়াল ছাড়া আসামি হিসেবে অন্য যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন- আবু তাহের, সুমন, মুরাদ, মানিক, শফিক, টিটু, রাজ্জাক, শফিক (২), কামরুল, কিবরিয়া, দিপু, মরণ আলী, লিটন, আবুল, ন্যাটা সুমন, কালু ওরফে কালা বাবু, বাবু ওরফে বাইট্যাব বাবু ও বাবু ওরফে ইয়াবা বাবু। এদের মধ্যে মানিক বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে সময় লাগে পাঁচ থেকে সাত মিনিট। ঘটনার পরপরই সাবেক এমপি ও হ্যাভেলি প্রাপার্টিজের মালিক এমএ আউয়ালকে ফোন করে মূল ঘাতক কিলার সুমন বেপারী বলে, ‘স্যার ফিনিশ’। ৪-৫ দিন আগে আউয়ালের কলাবাগানের অফিসেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ সময় তাহের ও সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন বেপারীসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিল। হত্যা বাস্তবায়নে মূল দায়িত্ব দেয়া হয় সুমনকে। তার নেতৃত্বে ১০-১২ জন সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নেয়।
বৃহস্পতিবার বিকালে কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির লিগ্যাল আন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার আল মঈন।
এর আগে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সাহিনুদ্দিন হত্যার ঘটনায় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- সাবেক এমপি এমএ আউয়াল, হাসান, জাহিরুল ইসলাম বাবু, সুমন বেপারী ও রকি তালুকদার। এদের মধ্যে আউয়াল, হাসান ও বাবুকে র‌্যাব এবং সুমন ও রকিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করেছে।
এর আগে র‌্যাব ও পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার হয় মুরাদ ও দিপু। দুই দিনের রিমান্ড শেষে মুরাদকে বৃহস্পতিবার ফের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি। দিপুকে শুক্রবার আদালতে হাজির করা হতে পারে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সুমন ও রকির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাহিনুদ্দিন হত্যাকাণ্ডে ৩০ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছে বলে র‌্যাব জানতে পেরেছে। টিটুর মাধ্যমে সুমনের কাছে টাকা আসে। ১৫ মে সুমন ও বাবুসহ কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারীরা শলাপরামর্শ করে। ১৬ মে বিকালে তারা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। পূর্ব বিরোধ মীমাংসার কথা বলে সাহিনুদ্দিনকে সেখানে ডেকে আনা হয়। এ সময় সাহিনের সাত বছরের সন্তান মাশরাফিও সঙ্গে ছিল। সাহিন ঘটনাস্থলে আসার পর সুমন, মনির, মানিক, হাসান, ইকবাল ও মুরাদসহ ১০-১২ জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু সন্তানের সামনেই এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। শেষ পর্যায়ে শরীরের ওপরের অংশে মনির এবং মানিক হাঁটু ও পায়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এ সময় বাবুসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে লুকআউট ম্যান হিসেবে নজরদারি করে।
কমান্ডার আল মঈন জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে র‌্যাব উদ্যোগী ছিল। ১৭ মে এজাহারনামীয় আসামি দিপুকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানায় সোপর্দ করে র‌্যাব।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার মূল আসামি আউয়াল একজন আবাসন ও জমি ব্যবসায়ী। তার ছত্রছায়ায় সুমন সন্ত্রাসী গ্রুপ দিয়ে জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তার করতো। আউয়ালের কাছ থেকে সুমনবাহিনীর সদস্যরা প্রতি মাসে ১০-১২ হাজার টাকা করে মাসোয়ারা পেতো। ক্ষেত্র বিশেষ কাজ অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা পেতো। সুমনের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রিকশা টোকেন বাণিজ্য, মাদক এবং জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতো। গত দুই মাসে তাদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় ছয়টি মামলা হয়েছে। নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে এমএ আউয়াল এবং সাবেক মেজর মোস্তফা কামালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। সাহিনুদ্দিন হত্যায় দুই গ্রুপেরই যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে মামলায় মেজর গ্রুপের কাউকে আসামি করা হয়নি।
এ বিষয়ে র‌্যাব পরিচালক কমান্ডার আল মঈন বলেন, আউয়ালসহ যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা প্রাথমিকভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাবেক মেজর মোস্তফা কামালেরও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে আমরা শুনেছি। তাই এ বিষয়টিও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাহিনুদ্দিনরা ওই এলাকার স্থানীয় লোক। আউয়াল সেখানে প্রকল্প শুরুর পর ২০০৪ সাল থেকেই সাহিনুদ্দিন পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সরকারি জমি দখলের পাশাপাশি সাহিনুদ্দিন পরিবারের জমিও দখল করতে চান আউয়াল। কিন্তু সাহিন তাতে বাধা দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকলেও কখনো কখনো তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা এবং র‌্যাব-৪ এর অভিযানে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার রাত তিনটার দিকে ভৈরব সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমএ আউয়াল এবং বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে পটুয়াখালি থেকে জহিরুল ইসলাম বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মানস কুমার পোদ্দার জানান, সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন বেপারী ও তার সহযোগী রকিকে বুধবার রাতে পল্লবী ও রায়েরবাগ থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা মিরপুর জোনাল টিম।
গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আহসান খান জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় যাত্রাবাড়ী থানার রায়েরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বদানকারী সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুমনের দেয়া তথ্যমতে পল্লবী থানার স্কুল ক্যাম্প কালাপানি এলাকা থেকে অপর অভিযুক্ত রকিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সুমন বাহিনীর সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, এই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ১০-১২টি মামলা আছে। অর্ধশতাধিক জিডি আছে। বেশ কয়েকবার তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও জামিন পেয়ে তারা আবারও অপকর্মে লিপ্ত হয়। সাহিনুদ্দিনকে কোপানোর ঘটনায় মানিক এবং মনিরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই মানিক ও মনিরকে মাদক ও ডাকাতির মামলায় তিন মাস আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সুমনকেও এক মাস আগে গ্রেপ্তার করা হয়ছিল। কয়েকদিন আগে সে জামিন পেয়েছে।



More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 banglahost
Design & Developed by: ATOZ IT HOST
Tuhin